জলদস্যু মহিউদ্দিন বাহিনীর আতঙ্কে মনপুরার জেলেরা

<![CDATA[

জলদস্যু মহিউদ্দিন বাহিনীর আতঙ্কে রাতে মেঘনায় মাছ ধরতে যেতে পারছে না ভোলার মনপুরার জেলেরা। হামলা চালিয়ে লুটে নেয় জাল-নৌকাসহ সর্বস্ব। অস্ত্রের মুখে অপহৃত জেলেদের কাছ থেকে আদায় করছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ। নদীতে মাছ ধরতে নৌকা প্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার করে অগ্রিম টাকা দিয়ে জলদস্যুদের কাছ থেকে ‘বিশেষ টোকেন’ সংগ্রহে বাধ্য করা হচ্ছে অনেক জেলেকে। এসব বিষয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে না জানিয়ে গোপন রাখছেন ভুক্তভোগীরা। তবে জেলেদের রক্ষায় দস্যুদের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ।

চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি রাতে মনপুরার দক্ষিণে পাতালিয়ার চর সংলগ্ন মেঘনায় মাছ ধরছিল রহমানপুর গ্রামের জসিম মাঝির ট্রলার।

জসিম মাঝি বলেন, ‘হাতিয়ার জলদস্যু মহিউদ্দিন বাহিনী ১০-১২ জন তাদের ওপর হামলা চালায়। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মাছসহ ট্রলারের সব মালামাল ছিনিয়ে নেয়। অপহরণ করে নেয় ট্রলারের মাঝি জসিমকে। একই সময়ে সাইফুল ও বাচ্চু নামের আরও দুই মাঝিকে অপহরণ করে ওই বাহিনীর সদস্য ইসমাইল হোসেন।’

তিনি জানান, এ তিন জনের মুক্তির জন্য দাবি করা হয় ৫ লাখ টাকা। পুলিশকে না জানানোর শর্তে ২ লাখ ১০ হাজার টাকায় একদিন পরে মুক্তি মিলে ৩ মাঝির। তার ভাইয়ের মাধ্যমে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা পৌঁছে দেয়া হয়। পুলিশের নজরদারির কারণে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পরিবর্তে অপহৃতদের স্বজনদের মাধ্যমে হাতে হাতে নেন মুক্তি পণের টাকা।

আরও পড়ুন: কক্সবাজার /সাগরে জলদস্যুদের দৌরাত্ম্যে নাজেহাল জেলেরা

জেলেরা জানায়, মনপুরার বিভিন্ন এলাকা থেকে গত চার মাসে ১৩ জেলেকে অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা মুক্তি পণ আদায় করেছেন মহিউদ্দিন বাহিনী। হামলা ও অপহরণের ভয়ে রাতে নদীতে মাঝ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন অনেকে। কাঙ্ক্ষিত মাছ ধরতে না পেরে দেনা বাড়ছে তাদের। ক্ষতির মুখে পড়েছে ব্যবসায়ীরাও।

এদিকে মেঘনায় মাছ ধরার অনুমতি হিসেবে ‘বিশেষ টোকেন’ বিক্রি করছে দস্যুরা। বাধ্য হয়ে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকায় কেনা এই টোকেন সঙ্গে থাকলে ‘রক্ষাকবচ’ হিসেবে কাজ করবে। রহস্যজনক কারণে এসব বিষয়গুলো আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কাছে প্রকাশ না করে গোপন করছে ভুক্তভোগীরা।

মনপুরার তালতলি মাঝের ঘাটের জেলেরা অভিযোগ করেন, জলদস্যুরা হামলার পর টোকেন দেখাতে পারলে ছেড়ে দেয়। না হলে তুলে নিয়ে মুক্তিপণ আদায় করে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির মনপুরা উপজেলা সভাপতি মো. নাছির মহাজন  জেলেদের এ জিম্মিদশা থেকে মুক্তির জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান। মনপুরার পূর্বপাশে ও হাতিয়ার মধ্যবর্তী মেঘনায় কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ নিয়মিত টহল দিলে জলদস্যুরা নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন: মেঘনায় ৩ জেলে গুলিবিদ্ধ, একজনকে নিয়ে গেছে জলদস্যুরা
 

এদিকে সম্প্রতি (বৃহস্পতিবার) মনপুরায় এক সচেতনতা সভায় অংশ নিয়ে জলদস্যুদের কবল থেকে জেলেদের রক্ষায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে জলদস্যুদের ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে।’

মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ আহমেদ বলেন, ‘জেলেরা সব তথ্য পুলিশকে জানালে দস্যুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সহজ হবে।’

মনপুরা থানা পুলিশ গত বছর হাতিয়ায় অভিযান চালিয়ে মহিউদ্দিন বাহিনীর সদস্য মফিজ, ইসমাইল ও নাহিদকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে উদ্ধার করেছে মুক্তিপণ বাবদ নেয়া দেড় লাখ টাকা। এরপর থেকে মোবাইলে লেনদেন বন্ধ রেখেছে জলদস্যুরা।

]]>

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button