ছাড়পত্র পেল ভারত থেকে আমদানি করা গুঁড়া পাথর

<![CDATA[

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে পড়ে থাকা ভারত থেকে আমদানি করা ২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন গুঁড়া পাথরের মধ্যে ৭শ’ ৭০ মেট্রিক টন খালাস হয়েছে।

সোমবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়া গুঁড়া পাথর খালাসের কার্যক্রম শুরু করেছে স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট খলিফা এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধিরা।

স্থলবন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছরের ১৩ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে প্রথমবারের মতো চূর্ণ পাথর আমদানি করা হয়। কয়েক দফায় মোট ২ হাজার ৭০০ টন চূর্ণ পাথর আমদানি করে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড।

আরও পড়ুন: রংপুরে শিল্পকারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, প্রতিষ্ঠানটি আশুগঞ্জ নদীবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার জন্য এ পাথর আমদানি করেছে। এগুলো বন্দর থেকে ছাড়ানোর কাজ পায় আখাউড়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাকজিল খলিফা কাজলের মালিকানাধীন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট খলিফা এন্টারপ্রাইজ।

এদিকে, গুঁড়া পাথর প্রথমবার আমদানি হওয়ায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ছাড়পত্র দেয়ার কথা জানায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তবে পরবর্তীতে পরীক্ষা করে জানা যায়, মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে পাথরের বদলে ডাস্ট আনা হয়েছে। পরে স্থলবন্দরে আটকে দেয়া হয় ডাস্ট। এতে প্রতিদিনই বন্দর কর্তৃপক্ষকে মাশুল বাবদ ৩৬ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে।

এ ব্যাপারে সিএন্ডএফ এজেন্ট খলিফা এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি মো. মোজাম্মেল হক জানান, ২ মাস ১০ দিন আগে এলসির প্রথম চালানে ২ হাজার ৭শ’ মেট্রিক টন গুঁড়া পাথর আমদানি করা হয়। আমদানির পর কাস্টমস থেকে জানানো হয়, এ বন্দর দিয়ে এই পাথর আমদানির অনুমোদন নেই। এরপর থেকে কাস্টমসের নানা জটিলতায় গুঁড়া পাথর বন্দরে আটকে যায়।

তবে পরবর্তীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে প্রথম চালানের ৭শ’ ৭০ মেট্রিক টন গুঁড়া পাথর খালাসের অনুমোদন দেয়া হয় বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, খালাসের অনুমোদন পাওয়া গেলেও বন্দরে ১ হাজার ৯শ’ ৩০ মেট্রিক টন গুঁড়া পাথর থেকে যাবে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতির শিকার হতে হবে তাদের।

আরও পড়ুন: ভোলায় গ্যাসের বড় মজুতের সন্ধান

আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের উপকমিশনার আবু হানিফ মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, চূর্ণপাথর আমদানির অনুমতি না থাকায় ছাড়পত্র দেয়া হয়নি। তবে চার লেন মহাসড়ক প্রকল্পের হওয়ায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিশেষ ক্ষমতায় শর্তসাপেক্ষ ৭৭০ টনের ছাড়পত্র দিয়েছে। বাকিগুলোর জন্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এনবিআরে আবেদন করেছে।

বন্দরের সুপারিন্টেন্ডেন্ট মো: সামাউল ইসলাম জানান, পাথর আটকে থাকায় ২ মাস ১০ দিনে বন্দরের মাশুল ফি আদায় হয়েছে ২১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।

আর আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো: শফিকুল ইসলাম জানান, বাকি ১৯ শ’ ৩০ মেট্রিক টন গুঁড়া পাথর ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দ্বারস্থ হয়েছেন তারা। এ ব্যাপারে সফল হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড প্রতি টন গুঁড়া পাথর ১৩ মার্কিন ডলারে আমদানি করছে।

]]>

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button