নেপালে কি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরবে?

<![CDATA[

১৯৯০ সালে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর থেকে নেপালে কোনো সরকার তাদের পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেনি। ধারণা করা হচ্ছে, গত বছরের ২০ নভেম্বরের নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হবে না। অর্থাৎ গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটি যে রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সহজেই তা নিরসন হচ্ছে না। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠছে, নেপালে কি আদৌ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরবে?

সাম্প্রতিক নির্বাচনে নেপালের ২৭৫ সদস্যের নিম্নকক্ষে ৮৯টি আসন জিতে শীর্ষে উঠে আসে উদার গণতন্ত্রের ঐতিহ্যবাহী চ্যাম্পিয়ন নেপালি কংগ্রেস। এরপরই ৭৮টি আসন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বামপন্থি রাজনীতির মশাল বাহক নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি- ইউনিফায়েড মার্ক্সিস্ট অ্যান্ড লেনিনিস্ট (ইউএমএল)। আর ৩২টি আসন নিয়ে তৃতীয় হয় একসময় সশস্ত্র বিদ্রোহ চালানো বিপ্লবী শক্তি সিপিএন (মাওইস্ট সেন্টার)। 

২০১৭ সালের নির্বাচনে জোটবদ্ধ হয়ে যথাক্রমে ১২১টি ও ৫৩টি আসন জিতেছিল ইউএমএল এবং সিপিএন। দুই দল পরবর্তীতে একত্রিত হয়ে নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির (এনসিপি) আকারে একটি শক্তিশালী বামপন্থি শক্তির জন্ম দেয়। ঐক্যবদ্ধ এ দলটি কেন্দ্রের পাশাপাশি নেপালের সাতটি প্রদেশের মধ্যে ছয়টিতে সরকার গঠন করে। 

স্থিতিশীলতার পক্ষে ভোট দিয়ে কমিউনিস্ট জোটকে পাঁচ বছর দেশ শাসন করার ম্যান্ডেট দিয়েছিল নেপালের জনগণ। কিন্তু আদর্শিক অবস্থান থেকে নয়, দুটি কমিউনিস্ট দল এক হয়েছিল নিজ নিজ রাজনৈতিক স্বার্থে। অনেকে মনে করেন, ইউএমএল চেয়ারম্যান কেপি শর্মা ওলি এবং মাওইস্ট সেন্টারে তার প্রতিপক্ষ পুষ্প কমল দাহালের (প্রচণ্ড) রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্যই মূলত এক হয়েছিল দল দুটি। 

আরও পড়ুন: আস্থা ভোটে উতরে গেলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী

তাদের মধ্যে একটি ‘জেন্টলম্যান’স এগ্রিমেন্ট’ ছিল যে, প্রত্যেকে আড়াই বছরের জন্য সরকার পরিচালনা করবেন। দুজনের মধ্যে প্রথমে নেপালের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পান কেপি শর্মা ওলি। কিন্তু যখন ক্ষমতা পরিবর্তনের সময় আসে, তখন তিনি পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানান।  

ওলির এমন ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ জন্য ২০২১ সালের মার্চ মাসে নিজের পুরনো রাজনৈতিক দলকে পুনরুজ্জীবিত করা শুরু করেন দাহাল। একই সময়ে, ইউএমএলের একটি বড় অংশও মূল দল থেকে বেরিয়ে যায়।  

এরপর ২০২১ সালের জুলাইয়ে নিম্নকক্ষকে অসাংবিধানিকভাবে ভেঙে দেয়ার চেষ্টা করে আগাম নির্বাচন দেয়ায় ওলি সরকারকে বরখাস্ত করেন নেপালের সুপ্রিম কোর্ট। ওলিকে পদ থেকে অপসারণ করে আদালত কংগ্রেস নেতা শের বাহাদুর দেউবাকে নতুন প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন। নতুন সরকারে তার সঙ্গে যোগ দেয় মাওইস্ট সেন্টার এবং তিনটি ছোট দল।  

ক্ষমতাসীন জোটের পাঁচটি দলের মধ্যে চারটি ২০২২ সালের নির্বাচনে যৌথভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেয়। স্বৈরাচারী ওলিকে অপসারণের প্রয়োজনীয়তা থেকে জোটটি একত্রিত হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু নির্বাচনী দিক থেকে এটি ছিল একটি অপ্রাকৃতিক সংমিশ্রণ। কারণ, আদর্শিক দিক থেকে কংগ্রেস এবং মাওইস্ট সেন্টারের অবস্থান দুই মেরুতে। ফলে কংগ্রেস তার ‘স্থায়ী ভোটারদের’ মাওইস্ট সেন্টারের প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন জানাতে বলার পর, কেউ কেউ সেসময় তা প্রত্যাখ্যানও করেছিল।  

যদিও অনেক জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তৃতীয়বারের মতো নেপালের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন মাওবাদী নেতা পুষ্প কমল দাহাল (প্রচণ্ড)। জাতীয় নির্বাচনে কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় প্রধান বিরোধী দল ইউএমএলের সঙ্গে জোট বেঁধে সরকারপ্রধান হয়েছেন তিনি। 

তবে শপথ নেয়ার একমাসের মধ্যেই আস্থা ভোটের মুখে পড়তে হয়েছে নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে। গত ১০ জানুয়ারি পার্লামেন্টে এই ভোট হয়, যেখানে বিনা বাধায় উতরে যান পুষ্প কমল। বিরোধী কেপি ওলি শর্মার দল থেকেই আস্থা ভোটের ডাক দেয়া হয়। 

আরও পড়ুন: তৃতীয়বারের মতো নেপালের প্রধানমন্ত্রী হলেন মাওবাদী নেতা প্রচণ্ড

নতুন সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদে অর্ধেক সময় নেপালের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন প্রচণ্ড। এরপর ২০২৫ সালে জোটসঙ্গী ইউএমএলের কোনো নেতার হাতে পদ ছেড়ে দেবেন তিনি। তবে নতুন সরকারের মন্ত্রণালয় ভাগাভাগির কাজ বাকি থাকা, জোটের দলগুলোর ভিন্ন ভিন্ন আদর্শিক অবস্থানসহ অভ্যন্তরীণ রাজনীতির নানা হিসাব-নিকাশ বিবেচনায় নিয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে এখনও বহু পথ হাঁটতে হবে নেপালকে। 

]]>

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button