কী করলে বিদ্যুৎখাতের অপচয়-দুর্নীতি কমবে, জানালেন প্রতিমন্ত্রী

<![CDATA[

রাষ্ট্রীয় সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ ও গ্রাহকসেবার মান নিয়মিত নজরদারিতে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকতাদের আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, গ্রাহককে আরও মানসম্মত ও সাশ্রয়ী সেবা দেয়াই সরকারের লক্ষ্য। তাছাড়া বিদ্যুৎ খাত যত প্রযুক্তিনির্ভর হবে, ততই কমবে অপচয়, সিস্টেম লস, দুর্নীতি।

রোববার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর মিরপুরে ডেসকোর আধুনিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি স্ক্যাডার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, গ্রাহককে আরও উন্নত ও সাশ্রয়ী সেবা দেয়াই সরকারের লক্ষ্য। সেক্ষেত্রে গুরুত্ব পাচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ। 

একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতের প্রধান প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এখনো স্ক্যাডা পদ্ধতিতে যেতে না পারায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

নসরুল হামিদ বলেন, ‘আমরা ক্রেতাদের যেন ভালো সেবা দিতে পারি, সেজন্য আমরা সব বিষয়ে কাজ করছি। সেক্ষেত্রে সেটি অবশ্যই সাশ্রয়ী হতে হবে। গ্রাহক সেবায় যত বেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, তত বেশি সিস্টেম লস কমে আসবে। তত বেশি দুর্নীতি কমে আসবে।’

ডোসকোর উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রাহক সেবা ভালো হচ্ছে কি না, তা আমি গ্রাহকদের কাছ থেকে জানতে চাই। আমি মনে করি, গ্রাহকের মধ্যে একটি সার্ভে হওয়া উচিত, যে আপনারা (ডেসকো) ভালো বিদ্যুৎ দিচ্ছেন কি না। যদি বিদ্যুতে কোনো সমস্যা হয়, তাহলে আপনারা (ডেসকো) কত দ্রুত তা সমাধান করছেন। সেক্ষেত্রে নিয়মিত সার্ভে করা হবে। এতে নিজেদের সুধরে নেয়ার একটি সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

আরও্র পড়ুন: বাংলাদেশের পাঁচ বড় খাত সংস্কারের পরামর্শ বিশ্বব্যাংকের

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, ‘২০২২ সালের ২১ মার্চ শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণার পর আমাদের পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। সেক্ষেত্রে ডেসকো এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমি আশা করব, ডেসকো এখন বিদ্যুৎ বিভাগের অন্যান্যদের টেকনোলজিক্যালি পথ দেখাবে। যাতে করে আমরা ক্রেতাদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারি।’

বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার আধুনিক এক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সুপারভিজরি কন্ট্রোল অ্যান্ড ডাটা এক্যুজিশন বা স্ক্যাডা। দেশের বিদ্যুৎ খাতে প্রথম কোনো প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ পদ্ধতি চালু করেছে রাজধানীর উত্তর অংশে ১২ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবাহকারী কোম্পানি ডেসকো। আর এ পদ্ধতিতে সার্বক্ষণিক ডেসকোর ৬৯টি উপকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

ডেসকো জানায়, ১৫২ কোটি টাকা বরাদ্ধ থাকলেও স্ক্যাডা প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ১৩০ কোটি টাকা।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে যতটা অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে ততটা গুরুত্ব পায়নি সঞ্চালন ও বিতরণ খাত, এমনটাই অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। তবে সে অবস্থার যে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে, তার উদাহরণ ডেসকোর স্ক্যাডা পদ্ধতি। এর মাধ্যমে গ্রাহক সেবার মান আরও বাড়বে, এমনটিই প্রত্যাশা বিদ্যুৎ বিভাগের। 

]]>

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button