একনায়কতন্ত্রের দ্বারপ্রান্তে তুরস্ক

<![CDATA[

তুরস্কের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের আচরণ অনেকটাই বদলে গেছে। ব্রিটিশ সাপ্তাহিক পত্রিকা দ্য ইকোনমিস্ট এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, একনায়কতন্ত্রের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে তুরস্ক। বিরোধী মতামতকে দাবাতে ক্ষমতা প্রয়োগ করছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।

উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটো সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম সশস্ত্র বাহিনী তুরস্কের। সম্প্রতি পশ্চিম বলকান, পূর্ব ভূমধ্যসাগর ও আফ্রিকায় প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে দেশটি। চলতি বছরই দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান।

বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) ব্রিটিশ সাপ্তাহিক পত্রিকা দ্য ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তুর্কি প্রেসিডেন্টের আচরণ স্বৈরতন্ত্রের দিকে ঠেলে দিচ্ছে তুরস্ককে। স্থানীয় গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রীয় প্রচারের হাতিয়ারে পরিণত করেছেন এরদোগান। তার বিরুদ্ধে দেশটির বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণে নেয়াসহ আদালতকে ব্যবহার করে বিরোধীদের হয়রানির মতো অভিযোগও উঠেছে কয়েকবার।

আরও পড়ুন: সুইডিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সফর বাতিল করল তুরস্ক

পত্রিকাটি জানায়, ২০০৩ সালের মার্চে প্রথমবারের মতো দেশটির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রতিশ্রুতির ডালি সাজিয়ে বসেছিলেন এরদোগান। শুরুতেই অর্থনীতিকে চাঙা করতে তিনি সংস্কারের পথ বেছে নেন। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনীর হাতে নিপীড়নের শিকার তুরস্কের সবচেয়ে বড় জাতিগত সংখ্যালঘু কুর্দিদের কাছে শান্তির বার্তাও দেন এরদোগান। তার সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন ২০০৫ সালে তুরস্কের ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের বিষয়ে আলোচনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন।

তবে সময় যত গড়িয়েছে এরদোগানের ক্ষমতায় থাকার মনোভাব ততই তীব্র হয়েছে। ইকোনমিস্ট জানিয়েছে, ২০১৬ সালে তুর্কি সরকারের বিরুদ্ধে একটি ব্যর্থ অভ্যুত্থানের চেষ্টার পর সেনাসদস্যসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কয়েক হাজার কর্মচারীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন এরদোগান। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে ইন্টারনেটে বিভিন্ন খবর সেন্সর, গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রীয় প্রচারে ব্যবহার করা এমনকি বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধী নেতা ও সমালোচককে কারাগারে পাঠানো মতো অভিযোগও উঠেছে অসংখ্যবার।

আরও পড়ুন: সুইডেন, ফিনল্যান্ডকে তুরস্কের আল্টিমেটাম

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরদোগানের একনায়কতান্ত্রিক আচরণ সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে কখনো সমালোচনা করে না যুক্তরাষ্ট্র কিংবা পশ্চিমারা। এরদোগানকে উসকে না দিয়ে তুরস্কের মতো সামরিক শক্তিশালী দেশকে পাশে রাখতে চায় সব পক্ষই। আবার নিজেদের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে পশ্চিমাদের প্রয়োজন বলে মনে করেন তুর্কি প্রেসিডেন্টও।

ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরস্কের বিভিন্ন বিষয়ে পশ্চিমা নেতাদের দরকষাকষি করা উচিত। দেশটির আসন্ন নির্বাচনের আগে এরদোগানকে দেখানো উচিত পশ্চিমারা তার আচরণ সম্পর্কে কতটা সচেতন। সেক্ষেত্রে তুর্কি প্রেসিডেন্ট নিজের স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ পরিবর্তন করতে পারেন বলেও জানায় ব্রিটিশ পত্রিকাটি।

]]>

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button