দাম কমছে আটা-ময়দার, অস্থির মসলার বাজার

<![CDATA[

কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে ভোগ্যপণ্যের দাম। রাজধানীর বাজারে সবজি, মাছ, মাংস আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। চালের দামও স্বাভাবিক রয়েছে। তবে প্যাকেটজাত আটা ও ময়দার দাম কেজিতে কমেছে ৫ থেকে ১০ টাকা। তবে অস্থির মসলার বাজার, আর দাম বেড়েছে ডিমের।

শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সরেজমিনে দেখা যায়, শীতকালীন নানা রকম সবজির পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারার। সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় অন্যান্য সময়ের তুলনায় এখনো তিন ভাগের এক ভাগ দামেই সব ধরনের সবজি মিলছে।

সাধারণত শুক্রবারে বাজারে ক্রেতাদের ভিড় একটু বেশি থাকলেও এদিন ক্রেতাদের আনাগোনা ‍তুলনামূলক কম ছিল বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। এতে তাদের বেচাকেনা কমে যাওয়ায় ও নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে বলে জানান তারা।

এ বাজারে প্রতি কেজি আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর বেগুন ৩০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ৮০ টাকা, মুলা ২০ টাকা, শিম ২০ থেকে ৪০ টাকা ও শালগম ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শীতকালীন সবজি ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস যথাক্রমে ২০ টাকা ও ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ছুটির দিনে নারায়ণগঞ্জে মাছের আড়তে উপচেপড়া ভিড়

এদিকে বাজারে ডাল ও তেল আগের দামেই স্থির থাকলে স্বস্তি ফিরেছে আটা ও ময়দায়। কমতির দিকে রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের দাম। প্যাকেটজাত ২ কেজির আটা-ময়দার দাম কমেছে যথাক্রমে ২০ টাকা ও ১০ টাকা। ২ কেজি ওজনের আটার প্যাকেট ১৩৫ টাকায় আর ময়দা ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মসুর ডাল ১৩০ টাকা ও আমদানি করা ডাল ১০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে।

সেই সঙ্গে দীর্ঘদিন অস্থির থাকা তেলের বাজার আগের দামেই স্থির আছে। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চিনির বাজার নিয়ে ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ এখনো চাহিদামতো না হওয়ায় প্রতি কেজি চিনি ১১০ টাকায় কেজিতে বিক্রিতে হচ্ছে।

তবে আগুন মসলার বাজারে। বাড়ছে জিরাসহ বেশকিছু মসলার দাম। প্রতি কেজি জিরার দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। লবঙ্গ প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। মাস ব্যবধানে জিরার কেজি বেড়েছে প্রায় ২০০ টাকা। এদিকে বাজারে মৌসুমের নতুন রসুন আসতে শুরু করলেও মাস ব্যবধানে দেশি রসুনের দাম বেড়েছে ৬০ শতাংশ ও আমদানি করা রসুসের দাম বেড়েছে ২৭ শতাংশ। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি)  বৃহস্পতিবারের (১৯ জানুয়ারি) বাজারদরের তালিকা অনুসারে, প্রতি কেজি দেশি রসুনের দাম ১০০ থেকে ১৪০ টাকা এবং আমদানি করা রসুন ১২০ থেকে ১৬০ টাকা। যেখান এক মাস আগেও দেশি রসুনের দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা আর আমদানি করা রসুনের দাম ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা।

আরও পড়ুন: খুলনায় সরবরাহ কমায় মাছের দাম চড়া

অন্যদিকে দেশি আদার দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশ আর আমদানি করা আদার দাম বেড়েছে ৫৪ শতাংশ। প্রতি কেজি দেশি আদার দর ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ঠেকেছে ২০০ টাকায় আর আমদানি করা আদার দর ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০০ টাকায়।

মসলার দাম বাড়ার বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, এলসি (ঋণপত্র) জটিলতায় আমদানি কম হওয়ায় ও ডিলার পয়েন্ট থেকে কম পরিমাণে বিক্রি করার কারণে দাম বেড়েছে।

চালের বাজারে কোনো স্বস্তির খবর নেই বললেই চলে। বাজারে পোলাওয়ের চাল ছাড়া অন্যান্য চালের মধ্যে স্বর্ণার কেজি ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা। ব্রি-আটাশ ৫২ থেকে ৫৭ টাকা, মিনিকেট ৭২ টাকা ও নাজিরশাইলের দাম কেজিতে ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা। আর পোলাও এর চালের দাম পড়ছে ১৩৫ থেকে ১৪৫ টাকা।  

তবে ডিম ও মুরগির দাম কিছুটা বেড়েছে। সপ্তাহ ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিমের দাম ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। প্রতি ডজন ডিমের দাম রাজধানীর বাজারে বর্তমানে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম পড়ছে ১৬০ টাকারও বেশি। সোনালি মুরগির দাম ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ৬৮০ থেকে ৭০০ টাকা।

এদিকে মাছ বাজারে চাষের মাছ আগের দামে বিক্রি হলেও চড়া বিলের মাছ। চাষ করা বড় সাইজের রুই-কাতলা কেজিতে ৩০০ থেকে ৩৮০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, মাগুর ৫০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ১ হাজার ৫০ টাকা। 

]]>

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button