খুলনা মহানগরীতে ঢোকার ৩ রাস্তার বেহালদশা

<![CDATA[

খুলনা মহানগরীর তিনটি প্রবেশ পথের সড়কেরই বেহাল অবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এ সড়কগুলো।

মহানগরীর প্রবেশদ্বারের সড়কগুলোর বেহাল দশায় প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। পাশাপাশি বিকল্প সড়কগুলোতে যান বাহনের চাপ বাড়ছে। এসব সড়ক সংস্কার কিংবা পুনঃনির্মাণের জন্য খুলনার বেশ কয়েকটি সংগঠন দফায় দফায় আন্দোলন ও মানববন্ধন করলেও তার সুফল মেলেনি। এজন্য খুলনার বিভিন্ন দফতরের সমন্বয়হীনতাকেই দায়ী করছেন নাগরিক নেতারা। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই এসব সড়কের সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা যায়, খুলনা শহরে অন্যতম প্রবেশদ্বার মোস্তফার মোড় থেকে রায়েরমহল পর্যন্ত সড়ক খানা-খন্দে ভরে থাকার কারণে ঝুঁকি নিয়ে হেলে দুলে চলতে হয় ইজিবাইক, বাস, ট্রাক, প্রাইভেট কারসহ সব ধরনের যানবাহনকে। শুধু এই সড়কটি নয়, খুলনা নগরে প্রবেশের আরও দুটি সড়ক রূপসা সেতু থেকে শিপইয়ার্ড এবং শহর বাইপাস থেকে শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল সংযোগ সড়কেরও একই অবস্থা।

সংশ্লিষ্ট দফতর সূত্রে জানা যায়, নগরীর রূপসা ব্রিজ থেকে শহরে প্রবেশের সড়কটি চার লেনে উন্নীত করতে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ২৫৯ কোটি টাকার এ প্রকল্পের কাজ শুরু করে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। কাজ শুরুর পর নানা অজুহাতে কয়েক দফায় কাজ বন্ধ রাখে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। ধীর গতির কারণে এ কাজের এখনও পর্যন্ত হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ কাজ।

আরও পড়ুন: নবনির্মিত সড়কের মাঝখানে পল্লীবিদ্যুতের ২২ খুঁটি!

এদিকে শহরের বাইপাস সড়কের মোস্তফার মোড় থেকে রায়েরমহল পর্যন্ত যুক্ত সড়কটি ওয়াসা ও বিদ্যুৎ বিভাগ দুই দফা খোঁড়াখুঁড়ির পর দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খানা খন্দ আর বড় বড় গর্তে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অপরদিকে অভিভাকহীনতায় ভোগা সিটি বাইপাস থেকে শেখ আবু নাসের হাসপাতাল পর্যন্ত সংযোগ সড়কটির অবস্থা সব থেকে বেহাল। 

২০০৯ সালে এ সড়কটি খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নির্মাণের পর স্থানীয় সরকার বিভাগকে হস্তান্তর করে। তবে সড়কটি তাদের নয় বলে জানিয়েছে এলজিইডি। ফলে এক যুগে একবারও সংস্কার হয়নি সড়কটি। খালিশপুর শিল্পাঞ্চলের বড় বড় ট্রাক বের হওয়ার জন্য সড়কটি নির্মাণ করা হলেও তা মোটেও কাজে আসছে না। বিভিন্ন সড়কের এসব বেহাল দশায় বাড়ছে যানজট, বাড়ছে দুর্ঘটনা। দুর্ভোগের শেষ নেই স্থানীয়দেরও।

রায়েরমহল এলাকার জলিল শেখ নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, এক সময় ছিল পাকা রাস্তা, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় পিচ ঢালাই সড়ক এখন মাটির সড়কে পরিণত হয়েছে। সড়কের পিচ উঠে মাটির সড়ক হয়েছে। এখন আর বোঝার উপায় নেই এখানে এক সময় পাকা রাস্তা ছিল। বর্তমান অবস্থা এতটাই খারাপ যানবাহন তো দূরের কথা পথচারীও হেঁটে যাতায়াত করতে পারছে না।

আরও পড়ুন: এখনও শেষ হয়নি সংযোগ সড়কের কাজ

ট্রাক চালক মাসুম মিয়া বলেন, খুলনার রাস্তায় ঢুকলেই গাড়ির কাজ করাতে হয়। কবে যে রাস্তা ভালো হবে।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা), খুলনার সভাপতি এসএম ইকবাল হোসেন বিপ্লব বলেন, রাস্তার বেহাল দশায় যাত্রীদের বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। ভারি মালামাল ও কৃষিপণ্য পরিবহন করা নিয়ে পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়। দ্রুত সংস্কার করে ভোগান্তি কমানোর দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম আনিসুজ্জামান বলেন, বাইপাস সড়কটি তাদের নয়। ফলে সড়কটির বেহাল অবস্থার দায়ও তাদের নয়। এ ছাড়া মোস্তফার মোড় সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রকল্প কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. আরমান হোসাইন বলেন, বিভিন্ন সরঞ্জামের মূল্য বৃদ্ধি, বর্ষা মৌসুমে কাজ করতে না পারায় শিপইয়ার্ড সড়ক নির্মাণ কিছুটা ধীরগতিতে চলছে। নির্মাণ কাজ শেষ হলে জন ভোগান্তি লাঘব হবে।

]]>

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button