আড়াই বছর ধরে ভেঙে পড়ে আছে নতুন নির্মিত সেতু

<![CDATA[

সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হলেও এক প্রান্তের সংযোগ সড়কের সুরক্ষা দেয়াল ভেঙে পড়ায় কাজে আসছে না অর্ধশত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত খুলনার দাকোপের ভদ্রা নদীর ওপর নির্মিত সেতু। নির্মাণত্রুটির কারণে ভেঙে পড়ার পর আড়াই বছর পার হলেও শুরু হয়নি সেতুটির অসমাপ্ত অংশের কাজ। ফলে দুই পাড়ের সাত ইউনিয়নের দুই লক্ষাধিক মানুষের ভোগান্তি কমছে না।

দাকোপের কালীনগরে ভদ্রা নদীর ওপর ২০১৬ সালের আগস্টে ৩৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকার এ সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। দুই দফা সময় বাড়িয়েও মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করতে না পারায় ২০১৯ সালে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করে এলজিইডি। এরপর ২০২০ সালের মে মাসে অসমাপ্ত কাজের জন্য ১৩ কোটি ২০ লাখ টাকার নতুন চুক্তি হয় আরেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। কাজ শেষ করার কথা ছিল ২০২০ সালের নভেম্বরে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই সেতুর সংযোগ সড়কে বালু ভরাটের সময় সুরক্ষা দেয়াল ভেঙে পড়ে। এরপর দেড় বছর ধরে পড়ে আছে সেতুটি।

আরও পড়ুন: শত সড়কের উদ্বোধনী ফলক ভেঙে ফেলার ঘটনায় সেতুমন্ত্রীর নিন্দা

প্রায় আধা ঘণ্টা দাকোপ ঘাটে খেয়ার জন্য অপেক্ষায় থাকা অসুস্থ বৃদ্ধ নিরঞ্জন হালদার বলেন, ‘আমাদের দুর্ভোগের কোনো শেষ নেই। সরকার আমাদের এত টাকা খরচ করে একটা ব্রিজ করে দিলো, তা কোনো কাজেই আসছে না।’ স্থানীয় যুবক ফেরদাউস বলেন, ‘এ সেতুর কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে বলে ভেঙে পড়েছে। আর আমাদের কষ্ট বাড়ছে এ কারণে।’

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বারবার বিভিন্ন দফতরে তাগাদা দিয়েও সমাধান পাচ্ছেন না। দাকোপ উপজেলা চেয়ারম্যান মনসুর আলী খান বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েকবার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগকে জানালেও তারা কোনো কাজই করছে না।’

আরও পড়ুন: পদ্মা সেতুতে ট্রেন চলবে কবে, জানালেন মন্ত্রী

নকশা অনুযায়ী কাজ না করায় এ দুর্ঘটনা জানিয়ে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানায়। প্রকল্প শেষ হয়ে যাওয়ায় অসমাপ্ত কাজের জন্য নতুন প্রকল্পের অপেক্ষায় তারা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কেএম আনিস উদ্দিন বলেন, যে প্রকল্পে এই সেতুর কাজ হওয়ার কথা ছিল, সে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। নতুন কোনো প্রকল্প এলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই সেতুর অসমাপ্ত কাজ শেষ করা হবে।

সেতুটির দৈর্ঘ্য ৩০১ দশমিক ৪ মিটার এবং প্রস্থ ৭ দশমিক ৩ মিটার। সেতুর দুই পাড়ে কামারখোলা সুতারখালী, দাকোপ, লাউডোব, কৈলাশগঞ্জ, বাজুয়া ও বানীশান্তা ইউনিয়ন।

]]>

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button