লাইভ করা সেই যাত্রীর লাশের অপেক্ষায় পরিবার

<![CDATA[

নেপালের পোখারায় বিমানের বিধ্বস্তের ঘটনায় ৭২ আরোহীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭১ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। হতাহতদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজীপুর শহরের সোনু জইসওয়াল। দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত হওয়া ইয়েতি এয়ারলাইনসের ওই বিমানের যাত্রী ছিলেন তিনি।

বুধবার (১৮ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত সোনুর বয়স ২৫ বছর। তার লাশ এখনও বুঝে পাননি পরিবার। তার ভাই দীপক জইসওয়াল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘সে শুধু আমার ভাই ছিল না, আমি যেন একজন বন্ধুকেও হারালাম। এই অপেক্ষাটা অনেক কষ্টের।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানে পাঁচ ভারতীয় ছিলেন, যাদের সবাই দেশটির উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে সোনু জয়সওয়াল বিমানটি অবতরণের কিছু সময় আগে ফেসবুক লাইভ করছিলেন। আর লাইভ চলাকালীন সময়েই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়, যার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, বিমানের ভেতরে বসে থাকা যাত্রীদের ভিডিও করা হচ্ছে। অবতরণের আগে জানালা থেকে দেখা যাচ্ছে শহর। কিন্তু হঠাৎই বিস্ফোরণ ঘটে। ভিডিওর শেষ কয়েক সেকেন্ডে জানালার বাইরে ভয়াবহ আগুন দেখা যায়।

আরও পড়ুন: নেপালে বিমান দুর্ঘটনা: শোকাহত পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর শুরু

দুর্ঘটনার কয়েক মিনিট পর টিভি চ্যানেলগুলোতে খবর পৌঁছে যায়। আসতে থাকে একের পর এক সংবাদ। সেখান থেকে সোনুর পরিবারও বিমান বিধ্বস্তের খবর পেয়েছিল। তবে এ ঘটনা প্রথম প্রথম মেনে নিতে পারেনি তারা। অপেক্ষায় ছিল-হয়তো সোনুর বেঁচে থাকার খবর আসবে।

তবে রোববার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা নাগাদ সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যায়। সোনুর লাইভ ভিডিওটি চোখে পড়ে ভাই দীপকের। তিনি বলেন, ‘ভিডিওটি না দেখা পর্যন্ত খবরগুলো আমাদের বিশ্বাসই হচ্ছিল না। ভিডিওটি দেখতে গিয়ে আমার খুবই কষ্ট হচ্ছিল।’

এদিকে সোনুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরদিন সোমবার (১৬ জানুয়ারি) ভারত থেকে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা দেন তার বাবা রাজেন্দ্র প্রসাদ জইসওয়াল। সোনুসহ তিন সন্তানের বাবা তিনি। কাজ করেন উত্তর প্রদেশের গাজীপুর জেলার আলাওয়ালপুর আফগা গ্রামের একটি মদের দোকানে। গাজীপুরেই বসবাস তাদের।

গেল রোববার সকালে অভ্যন্তরীণ ইয়েতি এয়ারলাইন্সের বিমানটি ৬৮ যাত্রী ও ৪ ক্রু নিয়ে কাঠমান্ডু থেকে পোখারা বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে অবতরণের ঠিক আগে রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে আগুন লেগে যায়। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে সেনাবাহিনী ও দমকলকর্মীরা। তবে একজনকেও জীবিত উদ্ধার করা যায়নি।

গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতদের স্মরণে সোমবার (১৬ জানুয়ারি) নেপালে একদিনের শোক পালন করা হয়।

আরও পড়ুন: সন্ধান মিলল নেপালে বিধ্বস্ত বিমানের ব্ল্যাকবক্সের

দুর্ঘটনায় নিহত ৬৮ যাত্রীর মধ্যে ১৫ জন ছিলেন বিদেশি নাগরিক। ৪ ক্রুসহ বিমানের ৭২ জন আরোহীর মধ্যে ৫৩ জন ছিলেন নেপালের, পাঁচ জন ভারতীয়, চার জন রাশিয়ান এবং দুই জন কোরিয়ান। এ ছাড়া আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের একজন করে নাগরিক ছিলেন ওই বিমানটিতে।

এরইমধ্যে বিমানটির ব্লাকবক্স উদ্ধার করা হলেও তা থেকে এখন পর্যন্ত অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া যায়নি। এতে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে এখনো রয়েছে ধোঁয়াশা। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় সময় আবহাওয়া যথেষ্ট অনুকূলে এবং রানওয়ে পুরোপুরি দৃশ্যমান ছিল বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, অবতরণের ঠিক আগ মুহূর্তে বিমানের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে এটি বিধ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে। তবে, সেক্ষেত্রে একটি ইঞ্জিন বিকল হলেও, অপরটি দিয়ে অবতরণ সম্ভব বলেও জানান তারা।

 

]]>

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button