বান্দরবানের শূন্যরেখায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোলাগুলি, নিহত ১



<![CDATA[

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমের তমব্রু সীমান্তের কোনারপাড়ার শূন্যরেখায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিয়ানমারের সশস্ত্র দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলিতে হামিদ উল্লাহ (২৭) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় এক শিশুসহ ২ জন আহত হয়।

বুধবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বিকেলে গুলিবিদ্ধ এক রোহিঙ্গার মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়। মুহিবুল্লাহ উল্লাহ (২৫) নামে অপর রোহিঙ্গাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. আশেকুর রহমান জানান, বিকেল সাড়ে ৫টায় এক রোহিঙ্গার মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পৌঁছে। সন্ধ্যা হওয়ায় ময়নাতদন্ত করা যায়নি। বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) তার ময়নাতদন্ত করা হবে।

এ নিয়ে দিনব্যাপী এমএসএফ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পর রাত ৮টার দিকে মেইলে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের সহিংস ঘটনায় সকালে এমএসএফ কুতুপালং হাসপাতালে তিনজনকে আনা হয়, তাদের মধ্যে একজন মৃত ছিলেন।  

আরও পড়ুন: উখিয়া সীমান্তে গোলাগুলি, সতর্ক বিজিবি

এমএসএফ নিশ্চিত করছে যে, দুজন আহত ব্যক্তির একজন গুলিতে আহত হয়েছেন। অপর আহত শিশুটির হাতের পাশ দিয়ে বুলেট যাওয়ায় টিস্যু সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে শিশুটি তাদের সেবাকেন্দ্রে অবজারভেশনে রয়েছে। এ মুহূর্তে চিকিৎসার গোপনীয়তা নীতিমালার স্বার্থে আমরা রোগীদের সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করব না।

কুতুপালং ক্যাম্পের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এপিবিএন ১৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি সৈয়দ হারুন অর রশীদ জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, বিকেল ৫টার দিকে তমব্রু শূন্যরেখার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। এখনও আগুন জ্বলছে। ওই ক্যাম্পে আশ্রয়রত রোহিঙ্গাদের অনেকেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। আবার অনেক রোহিঙ্গা মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলে গেছেন। গোলাগুলির শব্দ আগের চেয়ে বেড়েছে। স্থানীয়রা চরম আতঙ্কে রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে ফোনে বিজিবির ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমেন শর্মা বলেছেন, সকাল থেকে তমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় থেমে থেমে গোলাগুলির খবর স্থানীয়দের মাধ্যমে জেনেছেন। তা এখনও অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাটি যেহেতু শূন্যরেখায় সেখানে আন্তর্জাতিক রীতি মতে বিজিবিসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ার নেই। তারপরও সীমান্তের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং প্রশাসন এ ব্যাপারে সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখছে।

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোলাগুলি: এক রোহিঙ্গা গুলিবিদ্ধ, গ্রেনেড উদ্ধার

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে ধামনখালী সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছিলেন, ৫টা ৪০ মিনিট থেকে আধা ঘণ্টাব্যাপী এ গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার রাতে কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রহমতের বিল হাজীর বাড়ি নামক এলাকায় ইয়াবা ব্যবসায়ীরা ইয়াবা চোরাচালানে সক্রিয় ছিল। সেই সময় গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে বালুখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বিজিবি টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা বিজিবি টহল দলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া শুরু করে। বিজিবি টহল দল তাদের জানমাল ও সরকারি সম্পদ রক্ষার্থে কৌশলগত অবস্থানে থেকে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে পাল্টা গুলি করে। এতে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে বিজিবি তৎপরতায় ইয়াবা ব্যবসায়ীরা মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

গোলাগুলির ঘটনায় বিজিবি টহল দলের কোনো ক্ষতি হয়নি। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কোনো সদস্য আহত কিংবা নিহত হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। 

]]>



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button